অমরেশ দত্ত জয়ঃ চাঁদপুরে করোনা ভাইরাস(কোভিড-১৯) মোকাবেলার সংগনিরোধের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়।এতে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে লোকসমাগম ও ছোট খাটো গণপরিবহন অনেকটা কমেছে।এর পাশাপাশি প্রশাসন কর্তৃক বাজার মনিটরিংও করা হয়েছে।এ কর্মযজ্ঞে মাঠে ছিলো সেনাবাহিনী,ম্যাজিস্ট্রেট,পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।২রা এপ্রিল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে জানা যায়,জেলায় বাজার মনিটরিংয়ে মোট ৩টি মোবাইল কোর্টে ৬ হাজার টাকা এবং করোনা ভাইরাস(কোভিড-১৯) মোকাবেলার সংগনিরোধের লক্ষ্যে মোট ৬৭টি মোবাইল কোর্টে ৪৬ হাজার ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।এদিকে সরজমিনে শহর ঘুরে দেখা যায়,রাস্তায় গণপরিবহনের মধ্যে সিএনজি-অটোরিক্সা সকালে কিছুটা চলেছে।যা বেলা শেষে অনেকটা শেষে কমে এসেছে।তবে প্যাডেল চালিত রিক্সা অহরত ও স্বাভাবিক চলাচল করেছে।যাতে করে মানুষের আনাগোনা পুরোপুরি কমেনি। সরজমিনে শহরে আরো দেখা গেছে,দিনব্যাপী এই তৎপরতায় পুলিশের থানা, ডিবি এবং ট্রাফিক বিভাগ সকাল থেকেই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে।সাথে ছিলো ম্যাজিস্ট্রেট এবং একটি সেনাবাহিনীর টিম।যার মধ্যে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে ছিলো চাঁদপুর সদর মডেল থানার তিনটি টিম।এই টিমগুলো ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করেছে।এরমধ্যে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টিম এসে ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের টিমের সাথে যোগ দেয়।সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ১ম শিফটে আবার বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফটে এই বাহিনীরা যৌথ ট্রহল দেয়।খবর নিয়ে জানা যায়, প্রচুর গাড়ি আটক করেছে পুলিশ।বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোবাইল কোর্টে প্রথম শিফটের জরিমানা,কারাদণ্ড এবং আটক গাড়ির এক হিসাব প্রসঙ্গে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) এর সহায়তায় ফোর্স ও ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতিতে সকালে মিশন রোড এলাকায় ৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।এতে ২টি মোটর সাইকেল কে ৫০০+৫০০ টাকা করে ও ৩ জন মানুষ অযথা ঘুরাফেরা করায় পর্যায়ক্রমে ৫০+২০০+১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।যাতে মোট জরিমান ১৩৫০/-টাকা।পরে থানার কিলো পার্টি ০১ এস আই মোবারক হোসেনের সহায়তায় ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতিতে মহামায়া রামপুর এলাকায় ০৪ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।যেখানে ০১ টি ফলের দোকানে ১০০০/-টাকা, ০১ টি কনফেকশনারী দোকানে ৫০০/- টাকা, ০২ জন মানুষ অযথা ঘুরাফেরা করায় তাদের থেকে ৪০০/- টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এখানে মোট জরিমানা ১৯০০/- টাকা। কিলো পার্টি ০২ এসআই তৌফিক আফসার এর সহায়তায় ম্যাজিস্ট্রেট বালিয়া,চান্দ্রা এলাকায় ০৩ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। সেখানে ০৩ জন মানুষ অযথা ঘুরাফেরার দায়ে ৬০০/- টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।থানার মোবাইল টিম ০১ এ এস আই আবুল কালাম এর সহায়তায় ম্যাজিস্ট্রেট বিষ্ণুপুর এলাকায় ০২ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। ওখানে ২ জন মানুষ অযথা ঘুরাফেরা করায় ২০০/- টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।এ সময়ে সদরে সর্বমোট ১৪টি মোবাইলকোর্টে পরিচালনায় ৪ হাজার ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।এ ছাড়াও শহরের নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ি ৬টি সিএনজি ও ৫টি অটো বাইক সহ মোট ১১টি আটক করে ফাঁড়ীতে রাখে।পাশাপাশি সদর থানা চেকপোস্ট টিম ও সদর ট্রাফিকের যৌথ অভিযানে ৮৭ টি সিএনজি ও অটোবাইক এবং ব্যাটারি চালিত রিক্সা আটক পূর্বক পুলিশ লাইনে রাখা হয়।যা মূূলত সতর্ক ও সচেতনতামূলক অভিযান করা হয়েছে বলেও জানা যায়।এ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য নিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনে কল দিলেও কল রিসিভ হয়নি।

