অমরেশ দত্ত জয়ঃ চাঁদপুর রেলওয়ের চাঁদপুর-কুমিল্লা মিটার বেজে চলাচলকারী কমিউটার নামের ডেমো ট্রেনে টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।সেই সাথে ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও যাত্রীদের মাঝে চরম হতাশার প্রশ্ন জেগেছে।১৭ মার্চ মঙ্গলবার ওই কমিউটার নামক ডেমো ট্রেনে করে কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরে আসা যাত্রীরা তাদের নানান ভোগান্তির কথা জানালেন।তারা ট্রেনটির বিভিন্ন ভোগান্তির অভিযোগ তুলে জানালেন,৩ ডাব্বা বিশিষ্ট এই যাত্রীবাহি ট্রেনটিতে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৫ শতাধিক।যার মধ্যে প্রতিদিনই প্রায় ৫০ শতাংশ যাত্রী থাকে বৃদ্ধা ও মহিলা।চাঁদপুর-কুমিল্লার এই দুরুত্বে অনেকেই কিছুটা স্বস্থি পেতে সড়ক পথ ছেড়ে ট্রেনমুখী হচ্ছেন।কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে দীর্ঘক্ষণের এই যাত্রা পথে কেউ যদি বিশেষ দুর অবস্থায়ও মল মূত্র ত্যাগ করতে চায়।সে ব্যবস্থা ট্রেন কর্তৃপক্ষ রাখে নি।যাত্রীরা অভিযোগ তুলে আরো বলেন,ট্রেনে নির্দিষ্ট আসনভেদে টিকিট না থাকায় সিট বিহীনভাবে যাত্রীরা যততত্র ট্রেনে উঠছে।এতে করে ভদ্র সমাজের মানুষের বেশে অনেক মুখোশধারী ছিনতাইকারী,পকেটমার ও মলম পার্টিরা ও যত্রতত্র কুচিন্তায় ট্রেনে উঠছেন।তারা চলন্ত ট্রেনে সুযোগ পেলেই সর্বশান্ত করে দিচ্ছেন সাধারণ যাত্রীদের।অথচ এসব বিষয়ে এই ৫ শতাধিক যাত্রীবাহি ট্রেনে অভিযোগ দেখার জন্য ৩ ডাব্বা মিলিয়ে মাত্র ১ জন আরএনবি সদস্য পাওয়া গেলো।এতে করে আমরা এই ট্রেনে চলাচলকারী যাত্রীরা রয়েছি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে।ভুক্তভোগী যাত্রীদের প্রশ্ন হলো,চাঁদপুর থেকে কুমিল্লা স্টেশন পৌঁছানো পর্যন্ত মোট ১৪ টির মতো স্টেশন রয়েছে।এই কুমিল্লা পর্যন্ত পৌছাতে চাঁদপুরের যাত্রীদের থেকে ৪০ টাকা করে ভাড়া রাখা হয়।সে দিক বিবেচনায় চাঁদপুর থেকে এক বার কুমিল্লা পৌঁছালে ট্রেন কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫’শ লোকের হিসেবে ২০ হাজার টাকার মতো ভাড়া পাচ্ছে।এভাবে এই ট্রেনটি সকালে এবং বিকালে ২ সময়ে দৈনিক ৪ বার আসা-যাওয়া করে দৈনিক আয় করছে ৮০ হাজার টাকা।অথচ যেই যাত্রীদের টাকায় লাভবান হচ্ছে ট্রেন কর্তৃপক্ষ।সেই যাত্রীদের নূন্যতম সুবিধা টয়লেট ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাটুকুর বিষয়ে যেন ভাবছে না ট্রেন কর্তৃপক্ষ।যাত্রী সাধারণের এসব অভিযোগ থেকে দায় এড়াতে চাইলেন চাঁদপুর স্টেশন মাস্টার জাফর আলম।তিনি বললেন,আমরা যাত্রীদের এসব অভিযোগ আগে শুনিনি।তবে যাত্রীদের এইসব বিষয়ে আমরা নিজে থেকেই উপর মহলে কয়েকবার জানিয়েছি।তার এমন যুক্তিতে সাংবাদিকরা যাত্রী সাধারণের এসব অভিযোগ লিখিত আকারে বা কোন চিঠি দিয়ে উপর মহলে জানিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্ন করলে সে প্রশ্নেরও কোন সুদত্তোর তিনি দিতে পারেন নি।এদিকে যাত্রীদের যাত্রাপথ নিরাপদ করতে সরকার অচিরেই এই কমিউটার নামক ডেমো ট্রেনটিতে টয়লেট ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।এমনটাই মনে করছেন চাঁদপুরের সচেতন মহল।

