মাহমুদুল হাছানঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অসহায়, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার কে খাদ্য সহায়তায় দিয়েছে শাহরাস্তি ফেসবুক ফ্রেন্ডশিপ ফোরাম। পরিচয় গোপন রেখে ঘরের দুয়ারে খাদ্য রেখে আসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে তারা এ কাজ করে যাচ্ছে নিভৃতে। ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ছুটে যাওয়া ও সামাজিক সচেতনতায় ফোরামটি ভূমিকা রাখছে।
১১ই এপ্রিল শনিবার এমন খাদ্য সহায়তা দিতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা রাফিউ হাসান হিলশা নিউজ কে জানান, আমি ও আমার সহযোদ্ধারা মধ্যবিত্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এই খাদ্য সরবরাহ করে সেবার ক্ষুদ্র একটি অংশ হয়ে এ কাজ করছি। অসংখ্য মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাঝে আমরা এ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। তিনি হিলশা নিউজ কে আরো জানান, আমরা ব্যক্তি পরিচয় গোপন রেখেই এই সেবাটি দিয়ে যাচ্ছি। যেমন ফেইসবুকের মাধ্যমে নিজেদের মোবাইল নাম্বার দিয়ে রেখেছি। সেই নাম্বারে যারা কল করছেন। তাদের নাম ঠিকানা লিখছি। পরে তাদের এলাকায় এলাকায় ঘুরে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্রদের খুঁজে বের করে এই সেবা পৌঁছে দিচ্ছি।
উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, পৌরসভার মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ আমাদের ডাকে দ্রুত সাড়া দিয়েছেন। আমরা তাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় দ্রুত সময়ে তাই খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি জনগণের দৌঁড়গোরায়। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সকলে মিলে কাজ করার এক প্লাটফর্ম হলো এই ফোরাম।
ফোরামটি প্রতিষ্ঠার পর কাজ করে যাচ্ছে শাহরাস্তিতে।অবদান রেখেছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান, দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স , করোনায় সচেতনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ সহ আরও নানা সামাজিক কাজে ফোরামটি অংশ নিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পুরো শাহরাস্তিবাসীর নিকট।
শাহরাস্তি অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হাসানুজ্জামান ফোরামটির ব্যাপারে হিলশা নিউজ কে বলেন, সামাজিক কর্মকান্ডে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে ফোরামটি। সকলে যখন ত্রাণ দেওয়ার সময় ছবি তুলায় নিজেদেরকে জাহির করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে এই ফোরামটি দেখিয়ে দিলো কিভাবে নিভৃতে থেকেও কাজ করা যায়। একজন মধ্যবিত্ত মানুষকে ত্রাণ দিয়ে ছবি তোলাটা খুবই মর্মান্তিক। তারা অভাবী হলেও তাদের সম্মান রয়েছে। আর তাদের সম্মান রক্ষার্থে ফোরামটি সচেষ্ট থেকে কাজ করে যাচ্ছে।
