মোঃ রাছেলঃ
২০১৮ সালের আজকের দিনে আমার বাবা আমাদের সকলকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান।
২০১৮ সালের পহেলা বৈশাখের ঠিক ৩ দিন আগে বাবা এক সপ্তাহ যাবৎ হসপিটালে ভর্তি। ঐ দিন বুধবার বিকেল বেলা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে আমার সহকর্মী সাংবাদিক ইউনুছ ভাই বলে চল হুন্ডার চাবিটা নে তোর বাবাকে হসপিটালে দেখতে যাবো। দেরি আর করলাম না ক্যাশের চাবিটা দিয়ে ক্যাশটা লক করে হুন্ডার চাবিটা নিয়ে হসপিটালে উদেশ্যে রওনা হলাম। আমার দোকান থেকে হসপিটাল ৫ মিনিটের রাস্তা।
হসপিটালে পৌঁছে সরাসরি টিএস আব্দুস সালাম স্যারের রুমে গিয়ে বাবার কি অবস্থা জিজ্ঞাস করতেই টিএস স্যার বলল অবস্থা বেশি ভালো না দাদা। শুনে সাংবাদিক ইউনুছ ভাইকে নিয়ে বাবার কেবিনে গিয়ে দেখি বাবার পাশে মা বসে আছে। আমাকে দেখেই কান্ন কন্ঠে মা বলল তোর বাবা আজ কথা বলছে না। আমাকে দেখেই বাবা কি যেন বলতে চেয়ে ও বলতে পারলেন না। আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বললাম বাবা তুমি কি কিছু বলবে। সাথে থাকা ইউনুছ ভাই ও বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল কাকা কিছু কি বলবেন। আস্তে আস্তে বাবা আমার কোলে ঢলে পড়ে যাচ্ছিল। ইউনুছ ভাই দেখে দৌড়ে ডাক্তার খবর দিতে গেলে ডাক্তার এসে আমার বাবার শিরায় হাত দিয়ে বলে বাবা আর নেই। সাথে সাথে আমি নিস্তবদ্ধ হয়ে পড়লাম। ইউনুছ ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আকাশ যেন আমার মাথায় ভেঙ্গে পড়ল।
বাবা যেন কি বলতে চেয়ে ও বলতে পারলেন না সে স্মৃতি আজও আমায় তাড়া করে বেড়ায়।
কৃতজ্ঞ ইউনুছ ভাইয়ের প্রতি,বাবা যখন হসপিটালে ভর্তি ছিল তখন প্রতিনিয়ত বাবার খোঁজ খবর নিতেন এবং সময় পেলে বাবার কেবিনে গিয়ে বাবার পাশে সময় দিতেন।
আজ ও মনে পড়ে বাবার নিঃশ্বাস টা মনে হয় ঐ দিন আমাকে দেখার জন্য আটকিয়ে ছিল। আর কি বলতে চেয়েছিল সে স্মৃতি আজও আমায় কাঁদায়।
তাই বলবো যাদের বাবা বেঁচে আছে বাবাকে স্বযত্নে লালন করুন আপনার জীবন পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে।আজ আমার বাবা বেঁচে নেই। সবাই আমার বাবার জন্য আর্শীবাদ করবেন। তিনি যেন স্বর্গ বাসী হন। যেখানে থাক বাবা ভালো থেকো। আমাদের জন্য আর্শীবাদ করো।
লেখক ও সাংবাদিক
সুজন পোদ্দার, কচুয়া ব্যুরো ইনচার্জ
দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ, বার্তা সম্পাদক কচুয়ার ডাক ও সাংগঠনিক সম্পাদক কচুয়া প্রেসক্লাব

