বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় দীর্ঘ ২৫ বছরের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়ির বেড়া ও পিলার ভাঙচুর, গাছ কেটে ফেলা, জায়গা দখলের চেষ্টা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব বাকরা (সেনবাড়ি) এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে সমীর সূত্রধরের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সমীর সূত্রধর, পিতা—মৃত স্বদেশ সূত্রধর, তার লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই সম্পত্তি নিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ সময়ে তারা সম্পত্তির দখল বুঝে না পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সঞ্জয় সূত্রধর, কাঞ্চন সূত্রধর, শান্তি সূত্রধর ও বিপ্লব সূত্রধরকে বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদীরা বিভিন্ন সময় তাদের সম্পত্তির দখল নেওয়ার চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পূর্ব বাকরা এলাকায় সমীর সূত্রধরের বসতবাড়িতে গিয়ে বিবাদীরা জমির বেড়া ও পিলার তুলে ফেলেন।
এ সময় একটি আমগাছ ও একটি জাম্বুরা গাছ কেটে ফেলা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
অভিযোগকারীর দাবি, একইভাবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতেও পুনরায় তাদের জমির বেড়া ভেঙে ফেলা হয়। দিনের পর দিন এভাবে জমি, গাছপালা ও ফসলি জমির সীমানার বেড়া ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিবাদীরা বসতবাড়ির গোয়ালঘরের বেড়া জোরপূর্বক ভেঙে ফেলেন।
এতে বাধা দিলে অভিযোগকারী ও তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে মারধরের জন্য ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগী সমীর সূত্রধর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির দখল বুঝে না পাওয়ায় তার পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভূমি-সংক্রান্ত নথিতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব বাকরা ও গোসাইরহপুর মৌজার বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানভুক্ত জমির বিবরণ রয়েছে। নথিতে বিভিন্ন দাগে নাল, বাগান, পুকুর, বাড়ি ও ভিটি শ্রেণির জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে জমির মালিকানা, দখল ও সীমানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের অবসান, সম্পত্তির দখল বুঝে পাওয়া, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে লিখিত অভিযোগে উত্থাপিত হামলা, ভাঙচুর, গাছ কাটা, দখলের চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...