মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
কে.এম. হাছান:
একদিকে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন, অন্যদিকে মুঠোফোনে এসএমএস—উত্তোলন দেখাচ্ছে এক লাখ টাকা। নিজের ব্যাংক হিসাবের এমন গরমিলে উদ্বিগ্ন হয়ে শাখায় ছুটে যান লতিফগঞ্জ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক মো. মহিউদ্দিন। সেখানে টাকা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান চাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তাদের কথিত অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখেও পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ফরিদগঞ্জের কলাবাগান এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত জনতা ব্যাংক পিএলসি’র শাখায় যান মহিউদ্দিন। তার দাবি, চলতি মাসে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে তিন দফায় মোট ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন তিনি। অথচ তার মুঠোফোনে ২০ হাজার টাকা করে পাঁচ দফায় মোট এক লাখ টাকা উত্তোলনের এসএমএস আসে।
বিষয়টি জানাতে ব্যাংক ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে আবেদন নিয়ে ব্যাংকে আসতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে গিয়ে ব্যবস্থাপককে পাওয়া যায়নি বলে জানান মহিউদ্দিন। পরে তিনি সেকেন্ড অফিসার মো. সাইদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাকে দুটি আবেদন ফরম দেওয়া হয়। ফরম পূরণের প্রক্রিয়া জানতে চাইলে সাইদ হোসেন বিরক্তি প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, বিষয়টি জানতে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা নিজেদের পরিচয় দেন এবং দৈনিক ইত্তেফাক, আরটিভি ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পরিচয়পত্র দেখান। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সকাল ১১টা পর্যন্ত শাখা ব্যবস্থাপক ব্যাংকে উপস্থিত না থাকায় তার অনুপস্থিতির ছবি তুলতে গেলে সেকেন্ড অফিসার মো. সাইদ হোসেন তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘কিসের সাংবাদিক?’
এ সময় নিরাপত্তাকর্মীকে ইশারা করে সাংবাদিকদের ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। ব্যাংক থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তাকর্মীরা একাধিকবার তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
পরবর্তীতে একাধিক সাংবাদিক তাদের ব্যক্তিগত ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে এমন মন্তব্যের কারণ জানতে চাইলে সাইদ হোসেন কোনো উত্তর দেননি বলে জানান তারা।
শুধু মহিউদ্দিন বা সাংবাদিকদের সঙ্গেই নয়, ব্যাংকটির কয়েকজন কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে আরও কয়েকজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আদর্শ একাডেমির শিক্ষক রাসেল ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, একদিন ব্যাংকে গেলে শাখা ব্যবস্থাপক তাকে উদ্দেশ করে ‘এই হোলাডা’ বলে সম্বোধন করেন। তার দাবি, গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আচরণে সৌহার্দ্যের অভাব রয়েছে।
গ্রাহক রায়হান খান বলেন, “জনতা ব্যাংকে এসে আমার শিক্ষা হয়ে গেছে। জীবনে বেঁচে থাকলে আর কখনো এই ব্যাংকে যাব না।”
আল-আমীন ভূঁইয়ার অভিযোগ, ব্যাংকটির কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রাহকদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, যেন ব্যাংকটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
গ্রাহক মো. আজাদ বলেন, “কয়েকজন কর্মকর্তার আচরণ সভ্য মানুষের মধ্যে পড়ে না। আমার সঙ্গেও একদিন তীব্র তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল।”
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ফরিদগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলামের কাছে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে উপস্থিত না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম।”
গ্রাহক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমি মন্তব্য করব না।”
এদিকে, ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনের বিপরীতে এক লাখ টাকা উত্তোলনের এসএমএস পাওয়ার বিষয়টির প্রকৃত কারণ কী—তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ওই গ্রাহক। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক গ্রাহক ও উপস্থিত সাংবাদিকরা।
গ্রাহকসেবা যেখানে একটি ব্যাংকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, সেখানে ফরিদগঞ্জের জনতা ব্যাংক শাখাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...