বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শিশুটি যেন হাসিমুখে ঘুমিয়ে আছে! দুই মাসের নাবিহানের বিদায়ে শোকাহত পরিবার চাঁদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অস্থায়ী চেকপোস্ট পরিচালনা ফরিদগঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই নতুন ঘর, দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা পপি বেগম মতলব দক্ষিণে বিদ্যালয়ে চার দিন ধরে লাইট-ফ্যান চালু, বিদ্যুৎ অপচয় ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির অভিযোগ কচুয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন হাজীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন চাঁদপুরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন। চাঁদপুরে ডিএনসির অভিযানে এক লিটার ফেয়ারডিলসহ একজন গ্রেপ্তার চাঁদপুরে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, চার প্রতিষ্ঠানে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বিশেষ অভিযান

ফরিদগঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই নতুন ঘর, দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা পপি বেগম

হিলশা নিউজ ডেস্ক / ৪২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন

কে. এম. হাছান, ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:

জীবিকার তাগিদে স্বামী সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন প্রায় এক বছর আগে। ধারদেনা করে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাসের জন্য একটি ছোট নতুন ঘর নির্মাণ করেছিলেন পপি বেগম।

সেই ঘর ঘিরেই স্বপ্ন দেখেছিলেন সন্তানদের নিয়ে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার। কিন্তু রাতের আগুনে তাঁর সেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন বসতঘর ও ঘরের সব মালামাল হারিয়ে দুই অবুঝ সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁর।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানুয়া গ্রামের খাসের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পপি বেগমের বসতঘরসহ ঘরের সব মালামাল পুড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বাঁচলেও পরনের কাপড় ছাড়া তাঁদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

পপি বেগমের স্বামী মো. রিয়াদ হোসেন জীবিকার সন্ধানে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে যান। তবে সেখানে অবৈধভাবে অবস্থান করায় তাঁর উপার্জন সীমিত।

এর মধ্যেই ধারদেনা করে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন পপি। তাঁর বড় মেয়ে সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার স্কুলে যাওয়া শুরু করেছিল। আর ছোট ছেলে ফারাজ খানের বয়স মাত্র তিন বছর। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানদের নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছিল পরিবারটি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১টার দিকে আগুনের তাপে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়।

এ সময় দুই সন্তানকে নিয়ে চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন পপি বেগম। তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে পপি বেগম বলেন, “আমার সাত বছরের মেয়ে ফাতেমা আর তিন বছরের ছেলে ফারাজকে নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত ১টার দিকে আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে যায়। সন্তানদের নিয়ে এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি।

স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভালেও কিছুই রক্ষা করা যায়নি। এখন শিশু সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব—কিছুই বুঝতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, তাঁর স্বামী সৌদি আরবে থাকলেও অবৈধভাবে অবস্থান করায় ঠিকমতো উপার্জন করতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বসতঘর হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।

ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ঘরের কোনো মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন অসহায় অবস্থায় রয়েছে। পরিবারটিকে কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে আপাতত শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি ছোট ঘর ঘিরে যে স্বপ্ন বুনেছিলেন পপি বেগম, মুহূর্তের আগুনে তা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে এখন তাঁর প্রয়োজন সহমর্মিতা ও সহযোগিতা। অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের এগিয়ে আসা জরুরি।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...