শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের অভিযানে আত্মসাৎকৃত ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি ওজনের ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, পাঁচলাইশ থানাধীন প্রবর্তক মোড় সংলগ্ন মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জনব বিপ্লব বসাক (৫৩)। একই প্রতিষ্ঠানে গত ১২-১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন রোমেন দে (৩৬)।
গত ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের স্টাফরা নিয়মিত মজুদ স্টক মিলানোর সময় স্বর্ণের অলংকারে অসঙ্গতি দেখতে পান। বিষয়টি মোবাইল ফোনে দোকানের মালিককে জানানো হলে তিনি দ্রুত দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে সেলসম্যান রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে দোকানের মালিক ও অন্যান্য স্টাফ মজুদ স্টক যাচাই করে দেখতে পান, রোমেন দের দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে রাখা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। চুড়িগুলোর পরিবর্তে সেখানে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছে। চুরি যাওয়া ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ির ওজন প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম বা ৭৯ দশমিক ৫১ ভরি এবং আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।
এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় ৪০৮/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে নেমে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) শওকত ইমাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে সীতাকুণ্ড থানাধীন ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে মামলার আসামি রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন দে জানায়, আত্মসাৎ করা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ির মধ্যে ৪৬টি বিভিন্ন জুয়েলার্সের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের (৪৭) কাছে বন্ধক রাখার তথ্য দেয় সে।
পুলিশের অভিযানে ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালী থানাধীন কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি, যার মোট ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম, জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে শ্যামল সিংহকেও আদালতে সোপর্দ করে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার কাছে থাকা অবশিষ্ট ৩৯টি স্বর্ণের চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধক রাখার তথ্য দেন।
পুলিশ তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ আগস্ট কোতোয়ালী ও বাকলিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘সাহা জুয়েলার্স’ থেকে ১৬টি, লিটন মহাজনের কাছ থেকে একটি, সাগর কারিগরের কাছ থেকে পাঁচটি, পার্থ মহাজনের কাছ থেকে ১১টি এবং রুবেল মহাজনের কাছ থেকে তিনটি স্বর্ণের চুড়ি জব্দ করে।
এছাড়া রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার ‘মর্ডাণ রিয়া জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘শাহ আমানত জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি এবং চকবাজারের ‘ফেন্সী জুয়েলার্স’ থেকে দুটি ও ‘তাজমহল জুয়েলার্স’ থেকে একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলাটিতে মোট ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে সর্বমোট ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি, যার ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি বা ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...