শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদগঞ্জে আমনের মাঠে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন, বাম্পার ফলনের আশায় চাষিরা চাঁদপুর প্রেসক্লাবের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু চাঁদপুরে নজরুল সংগীত প্রতিযোগিতায় মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম ফরিদগঞ্জে অর্থাভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত তিন শতাধিক রোগী পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চাঁদপুরে জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত শিশুটি যেন হাসিমুখে ঘুমিয়ে আছে! দুই মাসের নাবিহানের বিদায়ে শোকাহত পরিবার চাঁদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অস্থায়ী চেকপোস্ট পরিচালনা ফরিদগঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই নতুন ঘর, দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা পপি বেগম মতলব দক্ষিণে বিদ্যালয়ে চার দিন ধরে লাইট-ফ্যান চালু, বিদ্যুৎ অপচয় ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির অভিযোগ কচুয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

ফরিদগঞ্জে আমনের মাঠে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন, বাম্পার ফলনের আশায় চাষিরা

হিলশা নিউজ ডেস্ক / ৭১ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

কে. এম. হাছান:

মাথার ওপর হেমন্তের নীল আকাশ, আর নিচে দিগন্তজুড়ে সবুজের সমারোহ। বাতাসের দোলায় দুলছে আমন ধানের খেত। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের খেত এখন বেশ সতেজ। ভালো ফলনের আশায় মাঠে মাঠে ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৮৭, বিআর-২২ ও বিআর-২৩ জাতের ধানের পাশাপাশি হাইব্রিড ধানীগোল্ড জাতের আবাদও হয়েছে।

ইতোমধ্যে আগাম জাতের কিছু ধানে শিষ বের হতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ধান ঘরে তোলার আশা করছেন কৃষকেরা। তাই কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে জমিতে আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় দমনে চলছে নিবিড় পরিচর্যা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ রোপা আমনের খেত। কোথাও কৃষকেরা আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কোথাও জমির প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন।

অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের ফলে ধানের গাছগুলো বেড়ে উঠছে বেশ সতেজভাবে। সবুজে ছেয়ে যাওয়া মাঠজুড়ে এখন নতুন ফসল ঘরে তোলার প্রত্যাশা।

উপজেলার গুপ্তের বিল এলাকার কৃষক মমতাজ উদ্দিন জানান, বর্তমানে আমন খেতে আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় দমনের কাজ চলছে। ধানের গাছের অবস্থাও বেশ ভালো।

শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আশানুরূপ ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভালো ফলন নিশ্চিত করতে সার ও কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

কমলকান্দি গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি জমিতে আমনের আবাদ করেছি। আল্লাহর রহমতে ফসলের অবস্থাও ভালো। আশা করছি, ধারদেনা পরিশোধ করার পর সারা বছরের সংসার খরচ ও খাবারের জোগান নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।”

ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, “কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের ফসলের পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় দমনে সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমনের ভালো ফলন হবে। এতে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

সব মিলিয়ে ফরিদগঞ্জের আমন মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। মাঠজুড়ে বেড়ে ওঠা ধানের গাছ ঘিরে কৃষকের মনে জেগেছে নতুন আশার সঞ্চার। প্রকৃতির বিরূপ আচরণ না থাকলে এ মৌসুমে ভালো ফলনের মধ্য দিয়ে কৃষকের ঘরে ফিরবে স্বস্তি, আর সমৃদ্ধ হবে গ্রামীণ অর্থনীতি।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...